অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের যত সাফল্য 

অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের যত সাফল্য 

মো. আরিফুর রহমান, চেসবিডি.কম

খুলনা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের গর্ব করার মত উল্লেখযোগ্য সাফল্য না থাকলেও কিছু কিছু যে সাফল্য পায়নি তাও নয়।লাল-সবুজের দেশ দলগতভাবে সাফল্য না পেলেও দেশসেরা দাবাড়ুরা তাদের ব্যক্তিগত নৈপূণ্য দেখিয়ে বিশ্ব দাবার এ সর্বোচ্চ আসর থেকে বেশ কিছু অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন। যা নিয়ে গর্ব করা যেতেই পারে।তারা যে সাফল্য পেয়েছেন সেটি তাদেরকে ছোট দেশের বড় তারকায় পরিনত করেছে।
অলিম্পিয়াডে ব্যক্তিগত সাফল্য : বাংলাদেশ ১৯৮৪ সাল থেকে অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আসছে। দলগতভাবে লাল-সবুজ পতাকাধারী খেলোয়াড়রা গর্ব করার মত সাফল্য না পেলেও ব্যক্তিগতভাবে তারা বিশ্ব দাবার এ আসরে বেশকিছু কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছেন। উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে ১৯৮৮ সালে গ্রিসের থেসালংকি অলিম্পিয়াডে ওপেন বিভাগের ছয় নম্বর বোর্ডে সৈয়দ তাহমিদুর রহমান এবং মহিলা বিভাগে ইয়াসমিন বেগম  তৃতীয় নম্বর বোর্ডে স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯৯২ সালে ফিলিপাইনে ম্যানিলা অলিম্পিয়াডে মহিলা বিভাগের চার নম্বর বোর্ডে রোকসানা গুলশান নিক্কন রৌপ্য ও দুই নম্বর বোর্ডে সৈয়দা শাবানা পারভীন নীপা ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক মাস্টারের একটি নর্ম পূরণ করেন। ১৯৯৮ সালে রাশিয়ায় মস্কো অলিম্পিয়াডে আবদুল্লাহ আল রাকিব সরাসরি আন্তর্জাতিক মাস্টার উপাধি লাভ করেন। ২০০২ সালে স্লোভেনিয়া অলিম্পিয়াডে এনামুল হোসেন রাজীব গ্র্যান্ডমাস্টারের একটি নর্ম অর্জন করেন। এছাড়া বিভিন্ন অলিম্পিয়াড থেকে দেশসেরা দাবাড়ুরা ফিদে মাস্টার, ক্যান্ডিডেট মাস্টার খেতাব ও রেটিং লাভ করেছেন।
অলিম্পিয়াডে দলগত সর্বোচ্চ সাফল্য : অলিম্পিয়াডের গত ১৭টি আসরের মধ্যে জাতীয় পুরুষ দল ২০১২ সালে তুরস্কের ইস্তাবুল অলিম্পিয়াডে সর্বোচ্চ সাফল্য দেখায়। ১৫৭টি দেশের মধ্যে পয়েন্টের ভিত্তিতে ২৭ থেকে ৩৩তম ঘরে অবস্থান ছিল। টাইব্রেকিংয়ে হয়েছিল ৩৩তম। এশিয়ার মধ্যে সপ্তম এবং সার্কদেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্থান পেয়েছিল। এ সাফল্যের সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ার্ল্ড ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন লাল-সবুজ পতাকাধারীরা। সেখানে তারা সেরা ষোল দলের একটি ছিল।
অন্যদিকে জাতীয় মহিলা দল সর্বোচ্চ সাফল্যে দেখায় ১৯৯২ সালে ফিলিপাইনের ম্যানিলা অলিম্পিয়াডে। ৬২টি দেশের মধ্যে ২২তম হয়েছিল। উল্লেখ্য বাংলাদেশ ১৯৮৪ সাল থেকে অংশ নিচ্ছে। ওপেন বিভাগেই সেবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। গ্রিসের থেসালঙ্কি অলিম্পিয়াডে ওপেন বিভাগে প্রথমবারের মত অংশগ্রহণ করে ৮৮টি দেশের মধ্যে ৬১তম হয়েছিল। মহিলা দল ১৯৯৬ সাল থেকে অংশ নিয়ে আসছে। প্রথম অংশগ্রহণে তারা  সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪৯টি দেশের মধ্যে ৩২তম হয়েছিল।
এদিকে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম বলেন, জর্জিয়ার বাতুমি অলিম্পিয়াডকে সামনে রেখে আমরা একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রায় তিন মাস দলকে বিদেশী কোচের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।লাটভিয়ান সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার ইগোর রওসিস অতীতেও অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তার তত্বাবধানে ভাল কিছু প্রত্যাশা করছি। অলিম্পিয়াড সর্ম্পকে শামীম আরো জানান, খেলোয়াড়রা তাদের শক্তি-সামর্থ্যে দিয়ে অবশ্যই ভাল করার চেষ্টা করবেন।
 চেসবিডি.কম/এমএ

Leave a Reply

Your email address will not be published.