বাঘ মারা দাবাড়ুর গল্প

বাঘ মারা দাবাড়ুর গল্প
ক্রীড়া প্রতিবেদক
চেসবিডি.কম
ঢাকা : ৩ জুন ২০১৯

তিনি একজন দাবা প্রিয় মানুষ।খেলতে যেমন ভালবাসেন ঠিক তেমনি খেলা দেখতে ভীষণ পছন্দ করেন।আর দাবা বোর্ডে নিজের চেয়ে একটু শক্তিশালী প্লেয়ার পেলে কী যে খুশি হন। তখন তার কাছে ওই প্লেয়ারই বাঘ হয়ে উঠেন।কতক্ষণে তিনি তাকে ঘায়েল করবেন এই নিয়ে তার রাজ্যের চিন্তা।

জিতে গেলে তো কথাই নেই। সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে দারুণ স্ট্যাটাস, আজ এক বাঘ শিকার করলাম। হেরে গেলেও স্ট্যাটাস, একটুর জন্য বাঘটা ধরতে পারলাম না।এতোক্ষণে হয়তো দাবাপ্রেমীরা নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কার কথা বলছিলাম। হ্যাঁ, তিনি মো. আসাদুজ্জামান।তার প্রিয় অঙ্গনে সবাই আসাদ ভাই নামেই বেশি চেনেন।

পেশায় তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা।বর্তমানে তিনি সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার।একজন আধুনিক কবি হিসেবেও তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি একজন আন্তর্জাতিক রেটেড দাবাড়ুও বটে।দাবার বাইরে টেনিস ও টেবিল টেনিসে দারুণ দক্ষ।বর্তমানে তিনি এসোসিয়েশন অব চেস প্লেয়ার্স বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।নানা গুণে গুণান্বিত এই বাঘ শিকারীই মো. আসাদুজ্জামান।

পুরস্কার পেলে দাবা নিয়ে তার উপলদ্ধি আন্তর্জাতিক মানের বড় পরিসরের টুর্নামেন্টে ভালো ফলাফলে আমি বেশ আনন্দ পাই।এমন মিলনমেলায় নিজেকে মেলে ধরাটাও এক সফলতা।অবসর পেলেই তিনি বিশ্ববিখ্যাত গ্র্যান্ডমাস্টারদের খেলা মোবাইলে ইউটিউবে দেখে থাকেন।তাতেই দিন দিন খেলার উন্নতির কারণ।

সদ্যসমাপ্ত ওয়ালটন অ্যামেচার আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিয়োগিতার পঞ্চম রাউন্ড শেষে ফেসবুকে তার এক স্ট্যাটাসে লিখেন, আজ দাবা টুর্নামেন্টে বাঘ শিকার করতে পারিনি। কিন্ত আমি (১৭৮৬) পরাস্তও হইনি।কয়েকবারের ন্যাশনাল ক্যান্ডিডেটমাস্টার সোহেল চৌধুরীর (২০৪৪) সাথে ড্র করেছি।

এর আগে দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে তার আরেকটি স্ট্যাটাসে লিখেন, আজ টুর্নামেন্টে ছোটখাটো বাঘ পেয়েছিলাম। মিহির লাল দাসকে (১৯৫৪) আমি সাদা নিয়ে ১১৪ চালে টানা ৪ ঘন্টা খেলে হারিয়েছি।ফেসবুক পাঠকও তার এমন মজার মজার স্ট্যাটাস পড়ে দারুণ মজা পান।

এদিকে ওয়ালটন আন্তর্জাতিক দাবা টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড শেষে তিনি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঠিক এভাবে। টুর্নামেন্টের এক নম্বর খেলোয়াড় বড় বাঘ আন্তর্জাতিক মাস্টার মোহম্মদ মিনহাজউদ্দিন সাগরের (২২৯৪) সাথে এক নম্বর বোর্ডে সাদা নিয়ে খেলেছি। সাগরের একটু ভুলে আমি সঠিক চালটি দিতে ভুল করিনি।এক পর্যায়ে আমার পজিশন একটু ভাল হয়ে যায়।আবার এক পর্যায়ে আমি একটু ভুল করায় আমার কুইন, একটি রুক, একটি বিশপ আর সাগরের শুধু একটি রুক ও দু’টি নাইট ছিল। তবে সে মেট থ্রেট ধরে রেখেছিল কয়েক চালে। সে চালটি আমার নজরে আসেনি বা আমার কুইন ওঠায় হয়ত আমি একটু বেশি আশাবাদী হয়ে পড়েছিলাম। তাই আজ অল্প একটুর জন্য বাঘ হাতছাড়া হয়ে গেল।যারা খেলা দেখেছেন তারাও আজ এ গেমে আমাকে নিয়ে আশাবাদী হয়েছিল।যাক যথেষ্ট ভাল খেলার জন্য আমি সন্তষ্ট। তবু সামান্য ভুলটুকু ভোলার মত নয়।সবাইকে শুভেচ্ছা।প্রিয় সাগরকে অভিনন্দন।

পরপর দুই টুর্নামেন্ট শেষে তার উপলদ্ধি হয়েছে বড় ধরনের টুর্নামেন্টে রোজার শেষ দিকে একটু কষ্ট হয়েছে।খেলা শেষে প্রায় সময় বিছানায় দূর্বল হয়ে শুয়ে থেকেছি।সবগুলো রোজা করছি ইনশাল্লাহ। রমজান মাসে ডায়াবেটিস আর মাপি না।খাদ্যাভ্যাস একটু পরিবর্তন হওয়ায় মোটা হয়ে যাচ্ছি রমজান মাসেও।আবার একটু কম খেলে রোজায় বেশি কষ্ট পাই।এ মাসে রুটি খাচ্ছি না।তবু একটু সচেতন আছি তবে রমজান মাসে বেশি ডায়েট কন্ট্রোল করতে পারছি না।

খেলা নিয়ে নিজের মূল্যায়নেও ছিল দারুণ মজার।তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমি এতোদিনে অন্তত ফিদেমাস্টার টাইটেল পেতাম।কিন্ত অন্যদিকে আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যেতো।একদিকে চাকুরী তাছাড়া রয়েছে ডায়াবেটিস।তাই আমাকে অনেক বুঝে শুনে পা ফেলতে হয়।তবুও এ অবস্থা থেকে আমি দুটি দাবা ক্লাবেরও প্রতিষ্ঠাতা।চাকুরী, দাবা, সংসার সব নিয়ে মোটামুটি ভালো একটা মানে, সুনামে থাকতে পারলেই নিজেকে সুখি মনে করি।

চেসবিডি.কম/এমএ