করোনায় বন্ধ হয়নি চেকমেট : অনলাইনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দাবা

করোনায় বন্ধ হয়নি চেকমেট : অনলাইনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দাবা
আবু মুসা হাসান, লন্ডন থেকে
২৮ এপ্রিল ২০২০

করোনার তাল্ডবে তামাম বিশ্ব লন্ড-ভন্ড হয়ে গেছে। অর্থনীতির চাকা থেকে শুরু করে সবকিছু স্থবির হয়ে গেছে। খেলাধুলার জগতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস থেকে শুরু করে অলিম্পিক গেমস সবকিছুই বন্ধ হয়ে গেছে।

কিন্ত করোনায় থমকে যায়নি চেকমেটের খেলা। স্বাভাবিক অবস্হায় অনেকেই অনলাইনে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় বা কম্পিউটারের সাথে দাবা খেলে থাকেন।

তবে ‘করোনা যুগে’ অনলাইনে দাবা খেলার জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন কিংবদন্তি ম্যাগনাস কার্লসেন ২৫০ হাজার ডলার প্রাইজমানির একটি টুর্নামেন্টের উদ্যোগ নিয়ে অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতাকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছেন।

১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে ম্যাগনাস কার্লসেন স্বয়ং এক নম্বর সিডের হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। নরওয়েজিয়ান গ্র্যান্ডমাস্টার ম্যাগনাস কার্লসেন গত এক দশক ধরে বিশ্ব দাবার শিরোপা তার দখলে রেখে জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিনত হয়ে আছেন।

লন্ডনে আমি দুটি চেস ক্লাবের সদস্য। একটি হচ্ছে আমার স্হানীয় ক্লাব আক্সব্রিজ চেস ক্লাব। অপরটি হচ্ছে ব্রিটিশ বাংলা চেস এসোসিয়েশন (বিবি সি এ)। এই চেস ক্লাবটি বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস এ অবস্হিত এবং আমরা প্রবাসী বাঙালি দাবা খেলোয়াড়রাই গঠন করেছি। তবে এখন এই ওপেন দাবা ক্লাবের অধিকাংশ সদস্যই সাদাকালোসহ বিভিন্ন জাতিসত্বার দাবাড়ু। দুজন ফিদে মাস্টারসহ বেশ কয়েকজন চৌকস দাবাড়ু এখন বিবিসিএ এর সদস্য।

আক্সব্রিজ চেস ক্লাবে প্রতি বুধবার সন্ধ্যায় এবং বিবিসিএ ক্লাবে প্রতি রোববার বিকেলে দাবা খেলতাম নিয়মিতভাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, লক ডাউনের মধ্যেও আমার এই দুটি চেস ক্লাবেই আগের মতো বুধবার এবং রোববার দাবা খেলা হচ্ছে। তবে ঘরে বসে ‘করোনা বন্দি’ হয়েই অনলাইনে ক্লাব সদস্যদের সাথে দাবা খেলছি। আমাদের ক্লাব দুটিতে হচ্ছে অনলাইন টুর্নামেন্ট। এগুলোতে অংশ নিচ্ছ ২০/২৫ জন সদস্য।

মজার ব্যাপার হচ্ছে টুর্নামেন্ট শুরুর ১০ সেকেন্ড আগে ক্রিকেট ম্যাচের মত শুরু ছয় আনুষ্ঠানিক কাউন্ট ডাউন। আর প্রতিযোগিতা শেষে মিউজিকের সাথে স্ক্রিনে চলে আসে বিজয়ীদের তালিকা।করোনা ষুগে শুধু কি ক্লাবের সদস্যদের সাথে দাবা খেলছি? আক্সব্রিজ চেস ক্লাব 4NCL এ অংশ নিচ্ছে।

ব্রিটেনের চার জাতি (ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দান আয়ারল্যানড) চেস লিগে চার সদস্য বিশিষ্ট ১৭২টি টীম অংশ নিচ্ছে। ৪৫ মিনিট প্লাস ১৫ সেকেন্ড টাইম কন্ট্রোলের এই অনলাইন চেস লিগ শুরু হয়েছে ৭ এপ্রিল। ১৪ এপ্রিল আমার প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল এবং আজ ২৮ এপ্রিল দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলব।

তাই কেউ ফোন করে কুশল বিনিময় করেই যখন জানতে চান করোনা বন্দি হয়ে সময় কাটাচ্ছি কি করে? তখন আমি তাদেরকে বিনয়ের সাথে বলি, ২৪ ঘন্টার সাথে প্রতিদিন অন্তত আরও কয়েক ঘন্টা যোগ হলে আরও ভালো হতো।

তার মানে হচ্ছে, সকালে ঘুম থেকে উঠার তাড়া নেই। আবার রাতেও ঘুমুতে যাওয়ার তাড়া নেই। অন্যদিকে দিবানিদ্রার বেলায়ও নেই কোন বাঁধা নিষেধ। আর অনলাইনে দাবা খেলা যায় ইচ্ছে মতো।

লেখক : লন্ডন প্রবাসী প্রবীণ সাংবাদিক