বছরে অন্তত একটি করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চান প্রবাসী দাবাড়ুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
চেসবিডি.কম
ঢাকা : ১৭ মে ২০২১

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী দাবাড়ুরা বছরে অন্তত একটি করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডা প্রবাসী সাবেক জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়ন মহিলা ফিদেমাস্টার সৈয়দা শাবানা পারভীন নীপা। বাংলা ভাষায় দাবার প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘চেসবিডি.কম’ লাইভে ‘দ্য গেম ইস নট ওভার’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রবাসী দাবাড়ুদের এ অনুষ্ঠানে আরো সংযুক্ত হয়েছিলেন সাবেক তিন জন জাতীয় দাবাড়ু স্পেন থেকে আবুল কাশেশ ভূঁইয়া, আমেরিকা থেকে নেয়ামুল হক নিরু ও কানাডা থেকে খন্দকার কায়েস হাসান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায় যোগ দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ফিদে জোন প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম ও উপমহাদেশের প্রথম নারী আন্তর্জাতিক দাবা সংগঠক মহিলা ক্যান্ডিডেটমাস্টার মাহমুদা হক চৌধুরী মলি। অনুষ্ঠানটি ১৬ মে রাতে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন চেসবিডি.কম সম্পাদক মোরসালিন আহমেদ।

জাতীয় দাবা দলের সাবেক দাবাড়ু ও সাবেক জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন নেয়ামুল হক নিরু বলেন, এ মুহূর্তে দেশে গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেয়ে দেশে কোয়ালিটি দাবাড়ু তৈরি করা ভীষণ জরুরি। সেই সঙ্গে দেশে অন্তত ১০ জনের বেশি দাবাড়ুদের ২৩০০+ রেটিংয়ে উন্নতকরণ দরকার। কারণ যাদের নিয়ে আমাদের স্বপ্ন এমন ২৩০০+ রেটিংধারীর খেলোয়াড় সংখ্যা দেশে নিতান্তই কম। তিনি জানান, কাউকে টার্গেট করে নয়, অন্তত ১০জন ২৩০০+ রেটিং দাবাড়ু তৈরি করে তাদের সবধরনের সুযোগ সুবিধা দিলে এখান থেকেই কেউ না কেউ গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে বের হবেন। কাজেই গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট আয়োজনের আগে তাদের রেটিং বৃদ্ধি করা জরুরি বলে মনে করেন আমেরিকা প্রবাসী এই দাবাড়ু।

একাধিকবার বাংলাদেশ জাতীয় দাবা দলের হয়ে বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে প্রতিনিধিত্ব করা সাবেক জাতীয় দাবাড়ু খন্দকার কায়েস হাসান বলেন, ঘরোয়া দাবায় উন্নতি করতে হলে শুধু টুর্নামেন্টই নয়, একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কোচিং প্রোগ্রামাের উপর বেশি জোর দিতে হবে। শুধু তাই নয়, এই কোচিংখাতে টাকা বরাদ্ধের পরিমাণ বৃদ্ধির উপরও তিনি জোর দেন। কানাডা প্রবাসী এই দাবাড়ু বলেন, আগের চেয়ে দাবার কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলেও সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রিকই রয়ে গেছে। তিনি সেসব কার্যক্রমগুলোকে জেলায় জেলায় ছড়িয়ে দেবার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্পেন প্রবাসী সাবেক জাতীয় দাবাড়ু আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, প্রবাসে বসে সবসময়ই ঘরোয়া দাবার খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি। দূর থেকে যতটা বোঝা যাচ্ছে ঘরোয়া দাবা এখন আগের চেয়ে অনেক গতিশীল হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফোকাসটাও বাড়ছে। কিন্তু সেভাবে দাবার উপাধি বা সাফল্য খুব একটা চোখে পড়ছে না। এমন কী, সেই স্পন্সর সমস্যাটা এখনো রয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময়েও কেন দাবার নিজস্ব ভবন বা ভেন্যু হচ্ছে না এ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্রতই এর সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

লাইভ অনুষ্ঠানের এক পর্যায় যোগ দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ফিদে জোন প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম। তিনি বলেন, সবার কথাই তিনি শুনেছেন। তিনি এক এক করে প্রবাসী দাবাড়ুদের প্রশ্নের উত্তর দেন। সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম সৈয়দা শাবানা পারভীন নীপাকে বলেন, এখন থেকে বিদেশে বসবাসরত যেসব সাবেক জাতীয় দাবাড়ু রয়েছেন তাদেরকে দাবা ফেডারেশনের ঘোষিত সিডিউলগুলো পাঠানোর উদ্যোগ নেবেন। খন্দকার কায়েস হাসানের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোচিং প্রোগ্রামের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেই কোচিং প্রোগ্রাম শুরু হবে। নেয়ামুল হক নিরুর সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেছেন, আমরা আগামী তিন বছরের মধ্যে বেশকিছু নতুন গ্র্যান্ডমাস্টার বের করে আনার চেষ্টা করছি। আবুল কাশেম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম বলেন, বর্তমানে আমাদের ফেডারেশনে কোন আর্থিক সংকট কিংবা স্পন্সর সমস্যা নেই। এর মধ্যে স্কুল টুর্নামেন্টের জন্য ৭৪ লাখ এবং অপর এক স্পন্সর প্রতিষ্ঠান দাবার বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ২ কোটি টাকা দিয়েছেন। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে কোন উদ্যোগই নেয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন আরো, আমরা দাবার নিজস্ব ভেন্যু বা ভবনের জন্য চেষ্টা করছি। হয়ত অচিরেই এর সমাধান হয়ে যাবে। সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম জানান, বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি ড. বেনজীর আহমেদের কারণেই আজ ঘরোয়া দাবা অনেক গতিশীল হয়েছে। দাবা অনেক স্পন্সর পাচ্ছে। আন্তুর্জাতিক আঙিনায়ও আমাদের অনেক সুনাম বেড়েছে।

চেসবিডি.কম/এমএ