দাবাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি : শোয়েব

মোরসালিন আহমেদ

ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশ পুলিশ দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে দাবায় দল গড়েছে খুব বেশি দিন হয়নি। অথচ এই অল্প সময়ের ব্যবধানেই চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা এডিশনাল ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. শোয়েব রিয়াজ আলমের নেতৃত্বে দলটি পেয়েছে পরপর দু’টি বড় সাফল্য। ঘরোয়া দাবার সর্বোচ্চ দলগত আসর প্রিমিয়ার ডিভিশন দাবা লিগ ২০১৯ সালে তাঁর অধিনায়কত্বে অভিষেকেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবার নজর কেড়েছে। এরপর ২০২০-২১ মৌসুমেও তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ শিরোপা অক্ষুন্ন রাখার পাশাপাশি অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আসছে মৌসুমে হ্যাটট্রিক শিরোপায় চোখ রাখছে সার্ভিসেস এ দলটি। শুধু লিগেই নয়, বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসেও দলটি একটি স্বর্ণপদক ও একটি ব্রোঞ্জপদক জয় করেছে। এমন কী, দলের সদস্যরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরও মাতাচ্ছেন। আর এসব কিছুই সম্ভব হচ্ছে ড. শোয়েব রিয়াজ আলমের সাংগঠনিক দক্ষতায়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ দাবা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং দলটির অধিনায়ক। শুধু তাই নয়, তিনি বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনেরও যুগ্মসম্পাদক। সর্বোপরি তিনি একজন দাবা অন্ত:প্রাণ মানুষ। তাঁর সঙ্গে সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ দল গঠনের নৈপথ্য, তাদের পরিকল্পনা ও দাবার ভবিষৎ নিয়ে বিস্তর কথা হয়েছে। এখানে পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরলাম।

বাংলাদেশ দাবার অভিভাবক ড. বেনজীর আহমেদ। যার দিক-নির্দেশনায় বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন এখন আন্তর্জাতিক আঙিনায়
অ্যাকটিভ ফেডারেশনে পরিণত হয়েছে। তাঁর পরামর্শে দাবাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ড. শোয়েব রিয়াজ আলম

প্রশ্ন : হঠাৎ দাবা দল গঠনে উৎসাহী হলেন কীভাবে ?
ড. শোয়েব : বাংলাদেশ পুলিশ দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এটি ঠিক দাবায় আমাদের দল ছিল না। আইজি স্যার (ড. বেনজীর আহমেদ) বাংলাদেশ পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব নেবার পর আমাকে ডেকে দাবা দল গঠনে উৎসাহী করেন। কারণ আইজি স্যার একজন দাবাপ্রিয় মানুষ। সময় পেলে এখনো খেলেন। স্যারের দিক-নির্দেশনা নিয়ে ২০১৯ সালে প্রিমিয়ার লিগে দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু দল গঠনে নেমে দেখি দেশসেরা তারকা দাবাড়ুদের আগেই বড় বড় ক্লাবগুলো নিয়ে ফেলেছেন। আমরা অবশ্য গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, আন্তর্জাতিকমাস্টার মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান, আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ ও ফিদেমাস্টার আবদুল মালেককে পেলাম। এরপর জর্জিয়া থেকে আনলাম দুই গ্র্যান্ডমাস্টার যোবাভা বাহাদুর ও মিখাইল মেচডলিশভ্যালিকে। অবশ্য বিদেশী অতিথি খেলোয়াড়দের নিয়ে আসতে নিয়াজ মোরশেদ ভীষণ সহায়তা করেন। এভাবেই আমাদের প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয়ে গেলো।

২০২০-২১ সালের প্রিমিয়ার ডিভিশন দাবা লিগের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ পুলিশ দল

প্রশ্ন : কিন্তু যে দল নিয়ে প্রিমিয়ারে গিয়েছিলেন সেটা তো চ্যাম্পিয়ন হবার মত দল ছিল না। তারপরও কীভাবে চ্যাম্পিয়ন হলেন?
ড. শোয়েব : আপনি ঠিকই বলেছেন। প্রিমিয়ারে আমরা চ্যাম্পিয়ন হবার মত দল ছিলাম না। তবে আমাদের টিম স্পিরিডই চূড়ান্ত সাফল্য এনে দিয়েছে। আমরা লিগের সবকয়টি ম্যাচেই জয় পেয়েছিলাম। আপনি নিশ্চয় জানেন, তখন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ৬ জন গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়ে অর্থাৎ ৪ জন দেশী গ্র্যান্ডমাস্টার আর ২ জন বিদেশী গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়ে দল সাজিয়েছিল। শক্তির বিচারে তারাই ছিল টপ ফেবারিট। এর বিপরীতে আমরা ৩ জন গ্র্যান্ডমাস্টারসমৃদ্ধ দল নিয়ে আলোচনায় ছিলাম না। এমন কী, লিগে সেবার আমাদের একটি বোর্ড দুর্বল ছিল। তারপরও কিন্তু আমরা শক্তিশালী সাইফ স্পোটিং ক্লাবকে হারিয়েই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম।

২০১৯ সালের প্রিমিয়ার ডিভিশন দাবা লিগে বাংলাদেশ পুলিশ অভিষেকেই চমক দেখিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন

প্রশ্ন : অভিষেকে কঠিন লড়াই করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। এবার তো হেসে-খেলে চ্যাম্পিয়ন হলেন। শিরোপাটাও অক্ষুন্ন রাখলেন। এ সাফল্যের নেপথ্যে কী জানতে পারি?
ড. শোয়েব :
দেখুন, আমি কিন্তু শুরুতেই বলেছি দাবার ব্যাপারে আইজি স্যার ভীষণ আগ্রহী। এটি স্যারের প্রিয় খেলা। স্যারের নির্দেশনায় এবারও শক্তিশালী দল গঠনের চেষ্টা করি। আমাদের পুলিশ দাবা কমিটির প্রেসিডেন্ট এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজি মোশারফ হোসেন ও কমিটির মতামত নিয়ে লিগ শুরুর আগেই আমরা দেশের অন্যতম দুই টপ গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান ও মোল্লা আবদুলাহ আল রাকিব এবং আন্তর্জাতিকমাস্টার মোহাম্মদ ফাহাদ রহমানকে কনর্ফাম করে রেখেছিলাম। এরপর প্রতিপক্ষের শক্তি-সামর্থ্য বিবেচনায় ভারতীয় দুই গ্র্যান্ডমাস্টার সূর্য শেখর গাঙ্গুলী ও রনৌক সাদভানীকে কালেক্ট করি। আপনি নিশ্চয়ই জানেন এবার প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে বিভিন্ন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩ জন গ্র্যান্ডমাস্টার ও ৯ জন আন্তর্জাতিকমাস্টার খেলেছেন। ভেবেছিলাম হয়ত শিরোপা লড়াইটা ত্রিমুখী হবে। কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রা এতোটাই দুর্দান্ত খেলেছেন যে, শিরোপা জয়টা খুব সহজ করে ফেলেছিলেন। এক ম্যাচ আগেই আমরা শিরোপা জয় নিশ্চিত করেছিলাম। এমন কী, প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনাল হিসেবে নিয়ে আমরা লিগে শতভাগ জয় পেয়েছি। হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন এবার হেসে-খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।

প্রশ্ন : দুয়ারে আরেকটি মৌসুম কড়া নাড়ছে। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের পরিকল্পনা করেছেন কী?
ড. শোয়েব :
টানা দু’টি শিরোপা জয়ের পর আমাদের লক্ষ্য এখন হ্যাটট্রিক শিরোপা। বর্তমান দলটি ধরে রেখে আমরা দুই জন বিদেশী ভাল গ্র্যান্ডমাস্টার আনার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী দলগুলো কে কীভাবে দল সাজাচ্ছে সেদিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। সর্বোপরি প্রতিপক্ষের কৌশলের উপর নির্ভর করেই আমরা নতুন নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে দল গঠন করব।

দাবা অন্ত:প্রাণ ড. শোয়েব রিয়াজ আলমের সঙ্গে চার গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, জিয়াউর রহমান, রিফাত বিন সাত্তার ও মোল্লা আবদুল্লাহ আল রাকিব

প্রশ্ন : একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে ফিরতে চাচ্ছি। আপনি তো বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনেরও যুগ্মসম্পাদক। দাবার ভবিষৎ নিয়ে কী কিছু ভাবছেন?
ড. শোয়েব :
ঘরোয়া দাবার প্রচার, প্রসার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিকল্পে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন কাজ করছে। হ্যাঁ, আমাদের অনেক অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু গত এক দেড় বছর যাবত বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দাবার কার্যক্রম সেভাবে নিতে পারিনি। তারপরও করোনাকালে জাতীয় দল ফিদের বেশকিছু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেছে। আমরাও অন বোর্ডে কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ও দাবা লিগ করেছি। ধীরে ধীরে দাবার আরো কার্যক্রম অন বোর্ডে শুরু করব। করোনার মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের অর্থায়নে মিরপুর ক্রীড়াপল্লীতে বয়সভিত্তিক দাবাড়ুদের নিয়ে তিনটি বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি করা, তাদের উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা, গ্র্যান্ডমাস্টার (জিএম), আন্তর্জাতিকমাস্টার (আইএম) নর্ম অর্জনে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া, জেলায় জেলায় লিগ, স্কুল টুর্নামেন্ট, বিশেষ প্রশিক্ষণ, নারী দাবা লিগ, জাতীয় পর্যায় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করা, নতুন নতুন কোচ ও আরবিটার তৈরি করাসহ আরো অনেক কিছুই আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে নারী ব্লিটজ দাবায় স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদকজয়ী যথাক্রমে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শারমিন সুলতানা শিরিন, মহিলা ফিদেমাস্টার তনিমা পারভীন ও তাসলিমা প্রতিভা তালুকদারের সঙ্গে দাবাপ্রিয় মানুষ ড. শোয়ের রিয়াজ আলম

প্রশ্ন : অনেক পরিকল্পনার কথা শুনলাম। নি:সন্দেহে চমৎকার উদ্যোগ। তো ভবিষৎ পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম কোনটি প্রথম দৃশ্যমান দেখতে পাব। এ ব্যাপারে কিছু জানতে চাচ্ছিলাম?
ড. শোয়েব :
সবকিছু কিন্তু বৈশ্বিক করোনাকালের উপর নির্ভর করছে। তারপরও আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিকমাস্টার মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান, ফিদেমাস্টার সুব্রত বিশ্বাস, ক্যান্ডিডেটমাস্টার মনন রেজা নীড়, ক্যান্ডিডেটমাস্টার তাহসিন তাজওয়ার জিয়াসহ ওদের মত প্রতিভাদের তিন মাসের জন্য উইরোপে পাঠানো হবে। সেখানকার টুর্নামেন্টে এসব খুদে দাবাড়ুদের চেষ্টা থাকবে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করা, রেটিং বৃদ্ধি করা এবং নর্ম অর্জনের সুযোগ থাকলে সেটির চেষ্টা করা। এর পর ধাপে ধাপে অন্যসব গ্র্যান্ডমাস্টার ও কোচের মাধ্যমে আরো সম্ভাবনাময় দাবাড়ুদের বিভিন্ন গ্রুপে ইউরোপে টুর্নামেন্ট ও প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে। আশা করছি এভাবেই একটা সময়ে আইএম, জিএম নর্ম অর্জনের পাইপলাইনগুলো হয়ে যাবে।

প্রশ্ন : কিন্তু আমরা জানি অর্থ সঙ্কট, স্পন্সর অভাব আর সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে দাবা এগুতে পারছে না। এসব দূরকরণে ফেডারেশন কী কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে?
ড. শোয়েব :
দেখুন, দাবায় হয়ত বা একটা সময় এমন অভাব-অনটন আর অভিযোগ-অনুযোগ ছিল। কিন্তু আইজি স্যার ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবার পর থেকে একটা পরিবর্তন এসেছে। স্যার দাবার উন্নয়নের জন্য এরই মধ্যে একটি বড় অঙ্কের ফান্ড এনে দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশব্যাপী স্কুল টুর্নামেন্টের জন্যও আরেকটি বড় ফান্ড আছে। আরো অন দ্য প্রসেসে রয়েছে। কিন্তু করোনা আমাদের থমকে দিয়েছে। তবে আশা করছি শিগগিরই দাবার কার্যক্রম আবার বেগবান হবে।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখছেন ড. শোয়েব রিয়াজ আলম

প্রশ্ন : দীর্ঘ দিন ধরে লক্ষ্য করছি দাবা ফেডারেশন গতানুগতিক গন্ডির বাইরে গিয়ে কিছুই করতে পারছে না। এভাবে চললে দাবা এগুবে কেমনে?
ড. শোয়ের :
আপনার এ প্রশ্নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। আমি কিন্তু আগেই বলেছি আইজি স্যার দাবার দায়িত্ব নেবার পর অনেক পরিবর্তন এসেছে। যেমন দুই যুগ পর এশিয়ান জোনাল চ্যাম্পিয়নশিপ দেশের মাটিতে ফিরেছে। ঢাকায় দুবাই কাপ খ্যাত এশিয়ান সিটিজ চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছে। প্রথম সার্ক চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছে। আরবিটার সেমিনার ও ট্রেইনার কোর্স হয়েছে। আমরা সাউথ এশিয়ান চেস কাউন্সিলের সভাপতি পেয়েছি (ড. বেনজীর আহমেদ)। এশিয়ান ৩.২ জোনের সভাপতি পেয়েছি (সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম)। ২ জন আন্তর্জাতিক দাবা অর্গানাইজার পেয়েছি (সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম ও মাহমুদা হক চৌধুরী মলি)। ফিদে ও এশিয়ান চেস ফেডারেশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। হাই-অফিসিয়ালরা আসছেন। এ সময়কালেই কিছু নর্ম এসেছে। আমরা একজন আন্তর্জাতিকমাস্টার (মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান) ও একজন আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার (শারমিন সুলতানা শিরিন), বেশকিছু পুরুষ ও নারী ফিদেমাস্টার ও ক্যান্ডিডেটমাস্টার উপাধি পেয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক দাবায় বয়সভিত্তিক অনেক সাফল্য পেয়েছি। অর্থাৎ আমাদের কার্যক্রমে আমরা কিন্তু এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি অ্যাকটিভ ফেডারেশন।

প্রশ্ন : আমি কিন্তু গতানুগতিক বলতে সবকিছু ঢাকা কেন্দ্রিক হচ্ছে বলে বোঝাতে চেয়েছিলাম। কেন আমরা
দেশব্যাপী দাবার কার্যক্রম ছড়িতে দিতে পারছি না?
ড. শোয়েব :
আমরা কিন্তু সবসময়ই জাতীয় আসরগুলো দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেবার ব্যাপার আগ্রহী। তবে স্থানীয় ভেন্যু অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতা কারণেই আমাদের ঢাকা কেন্দ্রিক থাকতে হচ্ছে। তবে অচিরেই নানারকম পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে ফেডারেশন।

ড. শোয়েব রিয়াজ আলম

প্রশ্ন : যে কোন সময়ের চেয়ে দেশে এখন টুর্নামেন্টের (স্ট্যান্ডার্ড, র‌্যাপিড ও ব্লিটজ) সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু ভালমানের আরবিটার সঙ্কট থেকেই যাচ্ছে। এ থেকে কী বেরিয়ে আসার উপায় নেই?
ড. শোয়েব :
যথার্থই প্রশ্ন করেছেন। আমরা এখনো দুইজন অ্যাকটিভ আন্তর্জাতিক আরবিটার নিয়েই বসে আছি। অথচ দেখুন নেপালে কোন গ্র্যান্ডমাস্টার নেই, একজন আন্তর্জাতিকমাস্টারও নেই। সে দেশেও ডজনের মত আন্তজাতিক আরবিটার রয়েছে। এখন থেকে নতুন নতুন আরবিটার সৃষ্টিতে যা যা প্রয়োজন, এমন কী বিদেশে গিয়ে যদি তাদের ট্রেনিং করিয়েও আনতে হয় সে ব্যবস্থাও ফেডারেশন করবে। দেশব্যাপী দাবাটাকে ছড়িয়ে দিতে গেলেও প্রশিক্ষিত আরবিটারের বিকল্প নেই।

প্রশ্ন : জাতীয় বা জেলা পর্যায় নারী দাবাড়ু ও নারী দাবা সংগঠক সঙ্কটে উত্তরণে ফেডারেশনের কী কোন পরিকল্পনা রয়েছে?
ড. শোয়েব :
এমন সঙ্কট যে শুধু দাবাতেই রয়েছে তা কিন্তু সঠিক নয়। কমবেশি সব খেলাধুলাতেই এটি লক্ষ্য যায়। আমরা উদ্যোগ নিলে তো হবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও যারা এ অঙ্গনে আসতে চান তাদেরকেও আগ্রহী হতে হবে। তবে এ সঙ্কট মোকাবিলায় আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে।

প্রশ্ন : আইএম, জিএম নর্ম অর্জন, রেটিং বৃদ্ধি, আরবিটার সৃষ্টি, নারী দাবা লিগ, জেলায় জেলায় লিগ, স্কুল টুর্নামেন্ট, বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় পর্যায় নানানরকম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টসহ অনেক পরিকল্পনারই কথা শুনলাম। কিন্তু যারা গ্র্যান্ডমাস্টার রয়েছে, যারা আন্তর্জাতিকমাস্টার রয়েছেন তাদের নিয়ে কী কিছু ভাবছেন?

ড. শোয়েব : চমৎকার প্রশ্ন করেছেন। উনারা আমাদের জাতীয় সম্পদ। জাতীয় দলের অলঙ্কার। অবশ্যই তাদের খেলার মানোন্নয়নে ফেডারেশনের পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব আইএম রয়েছেন তাদের জিএম নর্ম অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেয়া হবে। যারা জিএম রয়েছেন তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের বিষয়টি পরিকল্পনাধীন রয়েছে। জাতীয় দলের জন্য বিদেশী কোচের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে। আমরা এখন একটি সমৃদ্ধ ফেডারেশন। অর্থ সঙ্কট নেই। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে বিলম্বিত হচ্ছে।

পরিবারের সঙ্গে ড. শোয়েব রিয়াজ আলম

প্রশ্ন : একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন রেখেই শেষ করতে চাচ্ছি। দাবায় আপনি অল্প সময়ে কী ভাবে এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন?
ড. শোয়েব :
আইজি স্যারের দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শে আমরা কমিটির সবাই দাবাকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখছি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। তবে আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন (হাসতে হাসতে জানালেন) সে বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই।

কৃতজ্ঞতা : পাক্ষিক ক্রীড়াজগত
বর্ষ ৪৪ # সংখ্যা ১৬ # ১৬ জুন ২০২১ # ২ আষাঢ় ১৪২৮