নিজস্ব প্রতিবেদক
চেসবিডি.কম
ঢাকা : ৮ মে ২০২১

বাংলাদেশের দাবায় আবার জোয়ার এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত গ্র্যান্ডমাস্টার ভারতের দিব্যেন্দু বড়ুয়া। বাংলা ভাষায় দাবার প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘চেসবিডি.কম’ লাইভে ‘এপার বাংলা-ওপার বাংলা দাবা চর্চার সেকাল-একাল’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ৭ মে রাতে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন চেসবিডি.কম সম্পাদক মোরসালিন আহমেদ।

ভারতের দ্বিতীয় ও উপমহাদেশের তৃতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার দিব্যেন্দু বড়ুয়া বলেন, গত চার বছরে বাংলাদেশের ঘরোয়া দাবা আর্ন্তজাতিক আঙিনায় ভীষণ সরব ছিল। বিশেষ করে এশিয়ান জোনাল চ্যাম্পিয়নশিপ, সার্ক চ্যাম্পিয়নশিপ, দুবাই কাপ, চট্টগ্রামে গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট এবং আরবিটার ও ট্রেইনার সেমিনারের আয়োজন করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন। এ জন্য তিনি বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ফিদে জোন প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীমকে ধন্যবাদ জানান।

তবে তিনি বলেছেন শুধু আন্তর্জাতিক ফোকাস হলেই চলবে না। একই সঙ্গে ঘরোয়া দাবার সাংগঠনিক ভিত শক্ত করতে হবে। তৃনমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ করা, প্রতিভাবানদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া, আইএম ও জিএম খেতাব অর্জনে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া এবং নারী দাবাকে এগিয়ে নেয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন দিব্যেন্দু বড়ুয়া।

এক প্রশ্নের জবাবে দিব্যেন্দু বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশ উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার পেয়েও বিশ্বদাবার সর্বোচ্চ চূড়ায় যেতে পারেনি। অথচ বিশ্বনাথন আনন্দ নিয়াজ মোরশেদের পর গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। শুধু তাই নয়, এক দশক ধরে বাংলাদেশ গ্র্যান্ডমাস্টার পাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন। এমনকী গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ ও আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ প্রসঙ্গে বলেন, তারা এই বয়সেও চ্যাম্পিয়ন হচ্ছেন। তার মানে নতুন প্রতিভা ঠিক মতো উঠে আসছে না।

গ্র্যান্ডমাস্টার দিব্যেন্দু বড়ুয়া নিজ দেশ সর্ম্পকে বলেন, আমাদের এখন ৬৮ জন গ্র্যান্ডমাস্টার রয়েছেন। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ৮ জন। কিন্তু বাংলাদেশ সেই পাঁচেই পড়ে রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের আরো তিন চারটি গ্র্যান্ডমাস্টার বের হওয়া দরকার ছিল।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে দিব্যেন্দু বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া লিগ করে আসছে। সেখানে বিভিন্ন দেশের গ্র্যান্ডমাস্টার অংশ নিচ্ছেন। যা খুবই প্রশংসনীয় ব্যাপার। অথচ ইন্ডিয়ায় আই লিগ হচ্ছে, আইপিএল হচ্ছে কিন্তু বিশ্বদাবার সুপার পাওয়ার হয়েও আমরা দাবা লিগ করতে পারছি না। এটিকে তিনি নিজেদের ব্যর্থতাই মনে করছেন। তবে তিনি জানান, গত জানুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে অল ইন্ডিয়া চেস ফেডারেশনের নতুন কমিটি হয়েছে। দাবা লিগ আয়োজন নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করবেন।

চেসবিডি.কমের ‘এপার বাংলা-ওপার বাংলা দাবা চর্চার সেকাল-একাল’ লাইভ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ফিদে জোন প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম। তিনি বলেন, আগের চেয়ে আমাদের দাবার কার্যক্রম অনেক বেড়েছে। নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছি। স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলো সাড়া দিচ্ছে। আর এসব কিছুই সম্ভব হচ্ছে সাউথ এশিয়ান চেস কাউন্সিল ও বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি আইজি ড. বেনজীর আহমেদের যোগ্য নেতৃত্বের কারণে।

চেসবিডি.কম/এমএ