মোরসালিন আহমেদ
চেসবিডি.কম
ঢাকা : ২০ ডিসেম্বর ২০২০

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের মধ্য দিয়েই আগামী ৪ জানুয়ারি অল ইন্ডিয়া চেস ফেডারেশনের (এআইসিএফ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আদালত নিযুক্ত প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা বিচারপতি অব. কে কান্নান গত ১৭ ডিসেম্বর এ নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করেন। মহামারীজনিত কারণে এ নির্বাচন জুমের মাধ্যমে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।

২০০৫ সালের পর এবার এআইসিএফের নির্বাচন ব্যালট-বাক্সে গড়াতে যাচ্ছে। গেল ১৫ বছর ধরে অবশ্য ভারতীয় দাবা কর্মকর্তারা মিলেমিশে সর্বসম্মতভাবে কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির ফেডারেশন চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বর্তমান কমিটির সভাপতি পি আর ভেনকেটরাম রাজা ও সাধারণ সম্পাদক ভরত সিং চৌহানের মধ্যে অন্ত:দ্বন্দ্ব, বিভিন্ন রাজ্যের দাবা কমিটি গঠনে অবৈধ হস্তক্ষেপ আর নানারকম অনিয়মের কারণেই আদালতের নির্দেশে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এআইসিএফের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে বর্তমান এআইসিএফ সভাপতি তামিলনাড়ুর পি আর ভেনকেটরাম রাজা একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যেখানে সাধারণ সম্পাদক পদে মহারাষ্ট্রের আরএম ডংগ্রে এবং কোষাধ্যক্ষ পদে গোয়ার কিশোর বন্দেেকর প্রার্থী হবেন।

অপরদিকে বর্তমান এআইসিএফ সাধারণ সম্পাদক নয়াদিল্লির ভরত সিং চৌহান আরেকটি প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন। যেখানে সভাপতি পদে গুজরাটের অজয় ​​প্যাটেল এবং কোষাধ্যক্ষ পদে হরিয়ানার নরেশ শর্মা প্রার্থী হতে চলেছেন।

প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা বিচারপতি অব. কে কান্নান প্রকাশিত নির্বাচনী তফসিলে বলা হয়েছে ২২-২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫টি পদের জন্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের একটি তালিকা ২৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় প্রকাশ করা হবে।

বহুল কাঙ্খিত এআইসিএফ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৪ জন। অর্থাৎ ৩২টি রাজ্য থেকে দুই জন করে ভোটার রয়েছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচন জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস ছড়াচ্ছে। নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে উভয় প্যানেলই নানারকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

এআইসিএফের নির্বাচনকে সামনে রেখে নরেশ শর্মা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আমরা ২০টি রাজ্যের সমর্থন পাওয়ার আশা করছি। তবে প্রতিপক্ষ প্যানেলের আরএম ডংগ্রের বক্তব্য হচ্ছে, তাদের যদি এতোই সমর্থন থাকতো তাহলে রাজ্যেগুলো আপত্তি তুলতো না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমাদের কমপক্ষে ১৯টি রাজ্যের সমর্থন রয়েছে সেটি শর্মাও জানেন। কাজেই এআইসিএফ নির্বাচনে কোন প্যানেল শেষ হাসি হাসে সেটি দেখার অপেক্ষায় দাবার সাথে সংশ্লিষ্ট ভারতবাসী।

চেসবিডি.কম/এমএ